ভেনেজুয়েলার গুইদোপন্থীরা তেল বিক্রির অর্থ নিতে চায়

0

এফএনএস আর্ন্তজাতিক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরোধীরা দেশটির তেল বিক্রির আয়ের কিছু অংশ নিজেদের দিকে টেনে আনার পরিকল্পনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি তহবিল ব্যবহার করে তেল থেকে অর্জিত অর্থে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এরইমধ্যে ‘অনেকদূর এগিয়ে গেছে’বলে বুধবার বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

মাদুরোকে উৎখাত করতে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।

জানুয়ারির শেষ দিকে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি’ ঘোষণা করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্বীকৃতি দেন।

ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্র পরিচালিত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র মার্কিন ইউনিট সিটগো পেট্রোলিয়াম করপোরেশন যে আয় করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওই তহবিল ব্যবহার করে তা তারা নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে  জানিয়েছেন মাদুরোবিরোধী আইনপ্রণেতা কার্লোস পাপারনি।

অষ্টম বৃহত্তম মার্কিন তেল পরিশোধনাগার সিটগো ভেনেজুয়েলার বিদেশি সম্পদের মধ্যে শীর্ষে আছে। এর মালিকানা নিয়ে কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে লড়াই চলছে।

প্রতিষ্ঠানটিকে মাদুরোর নিয়ন্ত্রণ থেকে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে কিছু আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে; ওপেকের সদস্য রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে তারা।

“এটি (তেলের আয় নিয়ে নেওয়া) অনেকদূর এগিয়ে গেছে। আগামি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ক ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছি,” বলেছেন পাপারনি।

ভেনেজুয়েলার এ বিরোধী আইনপ্রণেতা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তহবিলটির ধরন কিংবা কোন কোন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত থাকছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি।

‘স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি’ গুইদো এরইমধ্যে পিডিভিএসএ’র আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানিয়েছেন তার নীতিনির্ধারণী দলের সদস্য ইয়োন গয়কোচিয়া।

বিদেশি অংশীদাররা ভেনেজুয়েলায় তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে গয়কোচিয়া ওই অংশীদারদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।

গুইদোর নীতিনির্ধারণী দল এখন মাদুরো পরবর্তী সরকারের রূপরেখা, অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে জ¦ালানি সরবরাহ ও ঘাটতি মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রয়টার্স বলছে, তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতিতে জর্জরিত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ সরকারই এরইমধ্যে গুইদোকে ভেনেজুয়েলার ‘বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান’ হিসেবে স্বীকৃতিও দিয়েছে।

যদিও ফ্রান্স, স্পেন, অস্ট্রিয়ার মতো ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে গলা মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইতালি ও স্লোভাকিয়া।

রাশিয়া, চীন, কিউবা, তুরস্ক ও ইরানের সমর্থনপুষ্ট মাদুরো বিরোধীদলীয় নেতা গুইদোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাকে উৎখাতে ‘অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনার’ অভিযোগ এনেছেন।

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন জেনারেল প্রেসিডেন্টের পক্ষ ত্যাগ করে গুইদোর পক্ষে যোগ দিলেও দেশটির নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর বেশিরভাগ অংশই এখনও মাদুরোর সঙ্গেই আছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

Share.

Leave A Reply